Self Motivated – মানে কি! [জব/ইন্টারভিউ এর যে সিক্রেট কেউ বলে না]

এই পোস্ট টা হবু এমপ্লয়ি, অলরেডি এমপ্লয়ি আর এমপ্লয়ার তিন ক্লাসের জন্যই।

ভূমিকা

ভূমিকাটা ইচ্ছা করেই একটু লম্বা করবো; কিন্তু আমি নিশ্চিত আপনার সময় নষ্ট হবে না। সরাসরি টপিকে চলে যেতে চাইলে এখানে ক্লিক করতে পারেন।

সব চাকরির বিজ্ঞাপনে এই লাইনটা দেখা যাবেই- Self Motivated। খুব কম মানুষ ই এই লাইন টা উল্লেখ করেন না। কারণ হচ্ছে বেশির ভাগ (শতভাগ বলি নাই) বিজ্ঞাপন দাতা কোথাও থেকে একটা টেমপ্লেট কপি করে দুইটা শব্দ বা লাইন এদিক ওদিক করে পোস্ট করেন।

আমরাও কোন এক ফ্রেন্ড এর কাছ থেকে সিভি টেমপ্লেট কপি করে নিজের নামটা বসিয়ে জমা দিয়ে দেই।

বর্তমান কর্মস্থলে প্রায় ৩ বছর হতে চলল। এর আগে দেড় বছর একটা সেন্ট্রাল জোন আইএসপি তেও ছিলাম। এই প্রায় ৫ বছরে মিনিমাম ১০ টা হায়ারিং প্রসেসে আমার সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। সেখানে এমনও দেখেছি যে, ৫ জন ফ্রেন্ড একসাথে এপ্লাই করেছে এবং তাদের সবার বাবা মায়ের নাম একই, ফোন নাম্বার, বাসার ঠিকানা সব এক। শুধু ছবি আর নাম আলাদা।

এই কপি পেস্ট ট্রেন্ডের কারণে সব গুরুত্বপূর্ণ ডিটেইল আমরা মিস করে যাই। স্টার্টআপ ট্রেন্ডের কারণে অনেকেই অর্গানাইজেশনাল পড়াশোনা না করেই একটা কোম্পানি দাড় করিয়ে ফেলি। ফেইল করলে ভাগ্যকে সরকারকে দোষ দেই।

নোকিয়ার CEO তাদের কোম্পানি বন্ধ হওয়ার আগে একটা বাক্য বলতে গিয়ে অঝোরে কেঁদেছিলেন-

We didn’t do anything wrong, but somehow, we lost.

আমি নিশ্চিত যে প্রত্যেকটা স্টার্টআপ ফেইল হওয়ার পর তারাও নিশ্চয়ই একবার হলেও এই কথাটা চিন্তা করেছে। কিন্তু কোন কুল কিনার খুঁজে পায়নি যে আমি কি ভুল করলাম! যে ভাইকে দেখে আমি অনলাইনে পেয়াজ বিক্রি করা শুরু করলাম সে বাড়ি গাড়ি সব করলো; আর আমার ব্যাবসা বন্ধ হয়ে গেল!

এর মূল কারণ হচ্ছে এমপ্লয়ি হায়ার করাকে জাস্ট কাজ করার জন্য একজন মানুষ বেতনের বিনিময়ে নেওয়া। এর ডানে বামে যে আরও কিছু থাকতে পারে। তা চিন্তা না করা।

কোম্পানির জন্য ফিট

একটা কোম্পানিতে শুধু “স্কিল্ড” লোক নেওয়াটা বোকামি। স্কিল এর আগে দেখতে হবে সে আমার “কোম্পানির জন্য ফিট” কি না।

কারণ স্কিল খুব অল্প সময়ে বিল্ড করা যায়। কিন্তু আচার আচরণ বা মনোভাব মানুষ শিশুকাল থেকেই ডেভেলপ করে। প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পর এটা ডেভেলপ করা সম্ভব না। এই বিষয়ের বিশদ ব্যাখ্যা Delivering Happiness বইটা তে বিস্তারিত ভাবে বলা আছে। একটু খুঁজলেই বইটার epub বা অডিও বুক পাবেন।

কালচারালি একজন এমপ্লয়ি একটা কোম্পানিতে ফিট কি না এটা জানার জন্য ইন্টারভিউতে অনেকে প্রশ্ন করে-

আপনি এক্সট্রা সময় কাজ করতে রাজি?

ছুটির দিনে ডিউটি করতে পারবেন?

চালাক মানুষ সুন্দর করে তোতাপাখির মত বলে দেয়, “হ্যাঁ প্রয়োজনে অবশ্যই করবো। কিন্তু সব সময় পসিবল না।”

অনেক ক্ষেত্রে এমন হতে পারে যে- যিনি এই প্রশ্নটি জিজ্ঞেস করছেন, তিনি নিজেও হয়তো ইন্টারভিউ এর সময় এই প্রশ্নটিই শুনেছিলেন। তাই উপরোক্ত উত্তরে তিনি জাস্ট “হুম” বলে পরের প্রশ্নে চলে যান।
আবার অনেক সময় চতুর ম্যানেজার হয়তো বেশি সময় কাজ করিয়ে নেওয়ার কমিটমেন্ট নেওয়ার জন্যও জিজ্ঞেস করেন!

আর বেকার চাকরিপ্রার্থী চাকরিটা পাওয়ার জন্য তাতে সায় দিয়ে মুখস্ত উত্তর দেয়। মনে মনে ভাবে ডেইলি ওভার টাইম করলে তো জীবনে আর কিছু থাকবে না!

কিন্তু মুখস্ত বিদ্যাধারি এবং কনফিউজড হায়ারিং ম্যানেজার যদি চতুরতা না করে প্রশ্নটা একটু বুঝিয়ে করেন, এক্সট্রা কাজের কমিটমেন্ট না নিয়ে যদি কাজের প্রতি আগ্রহ আছে কি না, সেটা বুঝতে চাওয়ার জন্যই প্রশ্ন করছেন, সেটা বললে বেকার চাকরি প্রার্থীও সানন্দে সায় দিতে পারেন।

একটা কোট অনেকেই একবার পড়েছেন-

Do what you love, love what you do!

এমপ্লয়ি এবং এমপ্লয়ার উভয়কেই বুঝতে হবে যে কাজ করে যদি কেউ আনন্দ পায়, তখন সেটা বোরিং লাগে না। তার পিছনে সারাদিন লেগে থাকা লাগে না, এক্সট্রা টাইম দেওয়ার জন্য ব্ল্যাকমেইল করা লাগে না।

ইন্টারভিউতে যাচাই করা উচিত যে তার কি করতে হবে, এটা সে ক্লিয়ার কি না। আপনার বর্তমান টিমের সাথে মিশে সে ঠিক থাকতে পারবে কি না। নাকি সে অন্যদের ডিমোটিভেশনের কারণ হবে!

কারণ এক ফোঁটা লেবুর রস কিন্তু এক হাড়ি দুধকে নষ্ট করে দই বানিয়ে ফেলতে পারে। আপনার অজান্তেই সেই খুব ভালো লেবুর রস আপনার পায়েস বানানোর জন্য রাখা দুধ কে দই বানিয়ে ফেলবে।

তাই স্কিলের চাইতে “কোম্পানির জন্য ফিট” এমন লোক খুব সাবধানে নিয়োগ দেওয়া উচিত।

বয়স!

অনেকেই মানতে চাইবেন না যে একজন এমপ্লয়ির বয়স একটা কোম্পানিতে কিভাবে প্রভাব ফেলে!

প্রতিরক্ষা বাহিনী পৃথিবীর আদিমতম প্রতিষ্ঠানের একটি। আচ্ছা আর্মি বা অন্য যেকোনো বাহিনীতে বয়স কেন বেঁধে দেওয়া হয় জানেন? অবিবাহিত হতে হবে বলে দেয় কেন জানেন? বিয়ে করার জন্য সিনিয়রের পার্মিশন লাগে কেন জানেন?

আপনি অবশ্যই জানেন। কিন্তু কাজের সময় ঠাণ্ডা মাথায় খেয়াল করেন না। নিজের ক্ষেত্রে এপ্লাই ও করেন না।

একজন ২৪ বছরের যুবক আর একজন ৩৫-৪০ বছর বয়সের লোকের চিন্তা ভাবনা, ব্যাক্তিগত সমস্যা, প্রবলেম সলভিং স্কিল, এনালিটিক্যাল এবিলিটি এবং সর্বোপরি কাজের মান কিন্তু একই না।

দুই ক্যাটাগরির এমপ্লয়ি থেকে আপনি দুই ধরনের পারফর্মেন্স পাবেন। এদের কাজের ধরন, আচরণ, আউটপুট কখনো সেইম হবে না।

এই জন্য আমি অনুরোধ করবো আপনার কোম্পানিতে বয়সের ব্যবধান কম রাখার জন্য। বয়স্ক এমপ্লয়ি হায়ার করার প্রয়োজন অবশ্যই আছে। কিন্তু তাদের আলাদা টিমে রাখতে হবে। তাদের intaraction যেন লিমিটেড এবং essential ই হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। কারণ আমরা এশিয়ান রা “পলিটিক্স” আর “ঘরের খবর বাইরে ছড়ানোতে” ওস্তাদ। আর এই ধরনের ক্লোজ রিলেশন যখন দুই ক্যাটাগরির মধ্যে শুরু হবে, ধরে নেন আপনার কোম্পানির ডাউনফল শুরু!

আমাকে রেসিস্ট বলতে পারেন। কিন্তু অনুরোধ থাকবে একবার ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করে দেখার জন্য। আমার findings গুলা সত্য না মিথ্যা যাচাই করে কমেন্টে জানানোর জন্য।

Self Motivated

যখনি আপনার প্রতিষ্ঠানে এমপ্লয়ি আপনি সহ ৯ জনের বেশি হবে, ঠিক তখন থেকেই একটা চেষ্টা থাকবে সবার মধ্যে যে একটু ফাঁকি দেওয়া যায় কি না, কোন ভাবে একটু সাইডে গিয়ে ঘাপটি মেরে পড়ে থাকা যায় কি না। কোনভাবে মাস টা পার করতে পারলেই হল। এই কাজে আবার এক এমপ্লয়ি আরেকজনকে সাহায্যও করে ?
এই tendency কিন্তু স্কুল, কলেজে, ভার্সিটিতেও ছিল। কোন মতে এই সেমিস্টার পার হয়ে গেলেই হয় ?

কাউকে যদি এক কোনায় ঘাপটি মেরে পড়ে থাকার জন্য কাজ কম করার জন্য মোটিভেট করা যায়, তাহলেই উপরের কর্মকর্তার কাছে নিজের গুরুত্ব বাড়ানো যাবে। ইনক্রিমেন্ট বাড়বে।
বেচারা আরেক ভাইকে দেখে স্টার্টআপ শুরু করা CEO টাইটেলধারিও তাকে গুরুত্বপুর্ন মনে করা শুরু করবে। সাইডে বসে পড়া এমপ্লয়ির প্রতি রাগ করে সব ধরনের অত্যাচার করা শুরু করবে। অন্য দিকে ভরসা করবে সেই গুটিবাজ ভালো মানুষের মুখোশ পড়া এমপ্লয়ির উপর। কারণ সে তো এইসব পলিটিক্স এর অংশ কখনো ছিল না। তাই তার ধরতে না পারাটাই স্বাভাবিক!

(সব সময় যে ইচ্ছা করেই গুটিবাজি করে, এমন কিন্তু না; অনেক সময় সার্ভাইভাল স্কিল হিসেবে এই গুটিবাজি অটোমেটিক চলে আসতে পারে। আপনি যে ম্যাঙ্গো পাবলিক থেকে ভিলেন হয়ে যাচ্ছেন, এটা কেউ থাপ্পড় না দেওয়ার আগ পর্যন্ত টের নাও পেতে পারেন।)

সহজ সরল CEO একবার ও খুঁজে দেখবে না যে ওই এমপ্লয়িটা সাইডে কেন বসে পড়লো। তাকে মাঠে ফিরিয়ে আনার কথা মাথায়ও আসবে না।

ঠিক এই সিচুয়েশনে আপনার জব রিকোয়ারমেন্ট “Self Motivated” কাজে আসবে।

সেলফ মোটিভেশন আসলে একটা ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেস। যখন প্রয়োজন হবে, তখন কাজে আসবে। সব সময় মোটিভেশন এর দরকার নেই। ১০ জনের বেশি এমপ্লয়ি আছে এমন যেকোনো প্রতিষ্ঠানে জয়েন করার পর থেকে সব সময় সজাগ থাকতে হবে। কার সাথে ক্লোজ হচ্ছেন, নেটওয়ার্কিং করছেন খেয়াল রাখতে হবে। কমন সেন্স টা এখানে খুবই জরুরী। আগে থেকে কমন সেন্স থাকলে ভালো। না থাকলে টেনশনের কারণ নেই। বাঁশ খেতে খেতে এমনিতেই সেটা জন্মাবে।

আমি তো ভাই ডিমোটিভেট হয়েই গেছি! এখন কি করবো?

কাছে আসেন। দুইটা কথা বলি…

যদি কোন লেবুর দ্বারা ডিমোটিভেশনের শিকার হয়েই যান, সময় নেন। সাইডে যেহেতু চলেই আসছেন, আরেকটু সাইডে গিয়ে চিন্তা করেন গেঞ্জাম শুরু হইলো কেমনে? কবে? কার মাধ্যমে?
মানে গেঞ্জাম শুরু হওয়ার আগে কি এমন চেঞ্জ হয়েছিল যেটার কারনে আপনার আজ এই অবস্থা?

কোম্পানির কর্নধারদেরও এইসব ডার্টি পলিটিক্স এর প্রতি খুব ভালোভাবে খেয়াল রাখা উচিত। পোলাপান অলস হয়ে গেলে অত্যাচার শুরু না করে, জরিমানা, নেগেটিভ মার্কিং না করে রিওয়ার্ড করে, বাবা সোনা লক্ষ্মী বলে কিভাবে আলোর পথে আনা যায় সেই চেষ্টা করা।

কোম্পানি বড় হয়ে গেলে সাইডে বসে থুতু লাগিয়ে নোট গুনে কোঁচড়ে ভরে বাড়ি নিয়ে গেলেই দায়িত্ব শেষ না। প্রত্যেকটা এমপ্লয়ির দিকে খেয়াল রাখতে হবে। অফিসের ভিতরে কে আসে কে যায়। ইভেন চা বানায় যে ছেলেটা, তার দিকেও নজর দিতে হবে।

কোম্পানি শুরু করার চাইতে এটাকে গর্তে ফেলে দেওয়া সহজ। গর্তে যাতে না ফেলা লাগে সে জন্য অন্তত ডেইলি মিনিমাম ৪ ঘণ্টা সময় দেন। পড়াশোনা করেন। নাইলে নোকিয়ার মত অবস্থা হওয়ার জন্য আপনার লেবুরাই নিজ দায়িত্বে ফেলে দিয়ে চলে যাবে।

এরপর আপনিও বলবেন- আমি কোন ভুল করি নাই!

কাছে আসেন ভাই। আপনি কিছু করেন নাই এইটাই আপনার ভুল।

 

অতএব বসগন, পোলাপানের দিকে সবসময় নজর রাখেন। পজিটিভ মার্কিং করেন। নেগেটিভ মার্কিং কোনোদিন কাজে আসবে না। কারো আসে নাই। আপনাদের ফেভারিট সাইট গুলোতেই অনেক আর্টিকেল আছে নিজ দায়িত্বে পড়ে নিবেন। লিঙ্ক লাগলে চুপি চুপি ইনবক্সে জানাবেন। দিয়ে দিবো নে। কেউ জানবে না ?

নোকিয়ার দুঃখের কাহিনীর এখানে তেমন কোন সম্পর্ক নাই। তাও দুইটা লিঙ্ক দিচ্ছি পড়ে দেখতে পারেন-

  1. Nokia Failed Because They Did the One Thing That Drives Most Companies into the Ground
  2. Nokia CEO ended his speech saying this “we didn’t do anything wrong, but somehow, we lost”.

আর এমপ্লয়িদের বলবো, যেহেতু ইন্টারনেটে আমার এই লেখা আপনি পড়ছেন, আপনাকে আরেকবার মনে করিয়ে দেই, আপনি একজন শিক্ষিত প্রাণী। আপনি মাটি কাটার কামলা না। ঠিকাদার আপনাকে ডেইলি কোদাল চালাইতে বলে না। আপনি একটা কোম্পানিতে ভ্যালু এড করবেন। মাটি কাটবেন না। আর ভ্যালূ এড করার জন্য শুধু কোদাল চালানো যথেষ্ট না। নিজ উদ্যোগে নতুন আইডিয়া দিয়ে কোম্পানিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে Motivation। নিজ উদ্যোগে নিজের কাজে ভ্যারিয়েশন আনা হচ্ছে Motivation। কারো কানপড়া শুনে ফ্রাস্ট্রেটেড না হয়ে উক্ত *** কে ইগ্নোর করা হচ্ছে Motivation।

** কোদাল চালানো বলতে সেইম কাজ সেইম ওয়েতে দীর্ঘদিন করে যাওয়া বুঝিয়েছি।

Click the icons to share

Posted by Sekander

Love to scroll social media and watch food vlogs. Trying to get my bachelors degree in business administration and working as a business development consultant for software companies at home and abroad.

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.