আমার প্রডাক্ট মার্কেটপ্লেস এ নিচ্ছে না! এখন কি করবো?

WordPress এর প্লাগিন, থিম বা Joomla এর কম্পোনেন্ট বা টেম্পলেট ডেভেলপ করেন আর কখনো কোন মার্কেটপ্লেসে যেয়ে একবারও রিজেক্ট হননি এমন ডেভেলপারের সংখ্যা খুবই কম।

ফেসবুকে বিভিন্ন গ্রুপ এবং দেশি কিছু কমিউনিটি এর সাথে যুক্ত থাকার কারণে মার্কেটপ্লেস থেকে রিজেকশনের জন্য অনেক আলোচনা দেখার সুযোগ হয়েছে। এইসব আলোচনা থেকে আমার ব্যাক্তিগত মতামত এখানে লিখছি।

রিজেকশন আসলে মোটিভেশন

মার্কেটপ্লেসের রিকোয়ারমেন্ট গুলো কিন্তু ডেভেলপারদের নিরুৎসাহিত করার জন্য বানানো না। একটা প্রডাক্ট কখনোই শুধু শোকেস করার জন্য বানানো হয় না। সেটা রিয়াল ইউজারদের রিয়াল কাজে ব্যবহারের জন্য সার্ভ করা হয়। এখন মার্কেটপ্লেস এ প্রডাক্টের কোয়ালিটি খারাপ হলে ইউজার ইউজ করতে গিয়ে ঝামেলায় পড়তে পারে বা একেবারে ইউজ করতে না পেরে আনইন্সটল করে দিলো। সিকিউরিটি ইস্যু থেকে শুরু করে কনফ্লিক্ট ও হতে পারে।

এই ধরনের জটিল সমস্যা গুলো এড়ানোর জন্য মার্কেটপ্লেস গুলো কিছু স্ট্যান্ডার্ড মেইনটেইন করে। কখনো রিজেক্ট হলে মন খারাপ করবেন না। এখানে মার্কেটপ্লেস কে দোষারোপ করার কিছু নেই। মার্কেটপ্লেস সবসময় চায় আপনার প্রডাক্ট তারা যেন সেল করতে পারে। কারণ সেল হলে তাদেরও দুই পয়সা আসবে। আপনাকে ফিরিয়ে দিলে তাদের উল্টা লস। কারণ আপনার প্রডাক্ট রিভিউ করতে তাদের সময় ব্যয় হয়েছে।

অতএব রিজেক্ট করে দিলে মন খারাপ না করে দ্বিগুণ উৎসাহে ঝাঁপিয়ে পরতে হবে ঝামেলা সলভ করার জন্য। রিজেক্ট হলে তার কারণ হচ্ছে আপনার এখনো শেখা বাকি। এই রিজেকশন গুলো মোটিভেশন হিসেবে নিতে হবে।

কোনভাবেই একসেপ্ট না হলে কি করবো?

যদি বারবার চেষ্টা করেও স্ট্যান্ডার্ড মিট না হয়, তাহলে বেস্ট ওয়ে হচ্ছে কাজ অফ করে যাদেরটা অলরেডি এপ্রুভ হয়েছে, তাদের কোড দেখা।

যদি পেইড মার্কেটপ্লেসও হয়, তবে পয়সা খরচ করে কিনে দেখতে হবে। এখানে ১০-২০ হাজার টাকা যাওয়া মানে লস না। একটু কষ্ট হলেও এই শিক্ষা আপনার সারাজীবন কাজে লাগবে।

একান্তই যদি টাকা খরচ করার অপশন না থাকে, তাহলে আমি বলবো ডেভেলপমেন্ট আপনার জন্য না। কারণ একজন দিন মজুরের ৫০০ টাকা কামাই করতে হলে ২০০ টাকা দিয়ে কোদাল কিনতে হয়। পৃথিবীর এমন কোন কাজ নেই যা ইনভেস্টমেন্ট ছাড়া করা যায়। ভিক্ষা করতে হলেও থালা লাগে, লাঠি আর ব্যাগ লাগে।

দুষ্ট লোকে অবশ্য বুদ্ধি দিবে পাইরেটেড সাইট থেকে টুল ডাউনলোড করে দেখার জন্য!

তারপরও যদি বলেন ভাই আমি বাঙ্গালি, আমি বিরোধী দলের লোক বলে খেলতে নিচ্ছে না, তাহলে অপশন হতে পারে গিটহাব।

গিটহাব থেকে কিভাবে প্রডাক্ট সার্ভ করবো?

বুটস্ট্র্যাপ, ভিউজেএস সহ অনেক বড় বড় প্রজেক্টের শুরু গিটহাব থেকে। গিটহাবে ওয়েব পেজ সার্ভ করা, কোড হোস্ট করা আর রিলিজ দেয়া সব এক যায়গা থেকেই করা যায়। ফ্রি আর ওপেন সোর্স প্রজেক্টের জন্য এর চাইতে ভালো যায়গা হয়না।

এখানেও আপনি মার্কেটপ্লেস গুলোর মত অনেক বড় ইউজার বেস পাবেন। গুগলে ভালো র‍্যাঙ্কিং আছে। পেপাল এর ডোনেশন বা পারচেস অপশন ইউজ করতে পারবেন বাটন এমবেড করে বা লিঙ্ক দিয়ে।

ফ্রি হোস্টিং

WordPress.com, Wix.com বা FourSquare এর মত প্রচুর সাইট আছে যারা ফ্রি তে সাইট বানানোর সুবিধা দেয়। আপনি আপনার প্রডাক্ট সেখান থেকেও সেল করতে পারেন। গিটহাবের তুলনায় একটু বেটার গ্রাফিকাল ইউজার ইন্টারফেস আর কন্ট্রোল পাবেন।

নিজের সাইট

আধুনিকতার এই যুগে সবার নিজের একটি ডোমেইন থাকা স্বাভাবিক। গিটহাব এর লিমিটেশন ভালো না লাগলে যেকোনো যায়গা থেকে ১ হাজার টাকা খরচ করে একটু খানি হোস্টিং নিয়ে শুরু করে দিন। কেউ থামাইতে পারবে নাহ!

দেশে এখন অর্ধশতাধিক কোম্পানি আছে যাদের আগে মেইন রেভেনিউ সোর্স ছিল থিমফরেস্ট, থিম হিপ্পো, WordPress.org ইত্যাদি। এখন তারা নিজেদের সাইট থেকে সরাসরি সেল করে। জুমশেপারের তো নিজেদেরই মার্কেটপ্লেস আছে ২ টা।

 

আপাতত আমার মাথায় এইটুকু আইডিয়া আছে। আপনিও কিছু এড করতে চাইলে জানাতে পারেন কমেন্ট সেকশনে। আর যেকোনো প্রশ্নের জন্যও কমেন্ট বক্স সবার জন্য উন্মুক্ত 🙂

One comment

  1. খুব ভাল লাগলো। আরও লিখুন…

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.